মুন্সীগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে গুলিবিদ্ধ হয়ে শ্রমিক নিহত

0
32

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চর ডুমুরিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুই পক্ষের তীব্র কোন্দলের জেরে আরিফ মিয়া নামের এক শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অপর গুলিবিদ্ধ ইমরানকে মুমূর্ষু অবস্থায় মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আজ সোমবার (১০ নভেম্বর) ভোর ৫টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। নিহত আরিফ মীর পেশায় শ্রমিক ছিলেন।

কোন্দলের কারণ ও পূর্ববর্তী খুন জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এই দুই গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন:

এক পক্ষ: ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওয়াহিদ মোল্লা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতিক মল্লিক।

অপর পক্ষ: সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজির আলী ও তার অনুসারীরা।

গত এক সপ্তাহ আগে এই বিরোধের জেরেই ওয়াহিদ-আতিক গ্রুপের সমর্থক তুহিন দেওয়ান নামের এক যুবক খুন হন। তুহিন হত্যার প্রতিশোধ নিতেই আজ ভোরবেলা ওয়াহিদ-আতিক গ্রুপের লোকজন প্রতিপক্ষ উজির আলী-আওলাদ গ্রুপের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায়।

হামলার বিবরণ নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, নিহত আরিফ মীর সকালে তার বাড়ির পাশের টিউবওয়েলে মুখ ধোয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের ৬০ থেকে ৭০ জন থেকে দেড়শ’ লোক ট্রলারে করে এসে হামলা চালায়।

নিহতের বোন ফাতেমা অভিযোগ করেন, আতিক মল্লিক ও জাহাঙ্গীর ইউসুফের নেতৃত্বে হামলাকারীরা ভোর ৫টার দিকে ককটেল ও বন্দুক নিয়ে চর ডুমুরিয়া গ্রামে এসে হামলা চালায়। তারা একাধিক বাড়িতে গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোসহ ভাঙচুর ও লুটপাট করে। নিহতের স্ত্রী পারুল বেগম জানান, তার স্বামী কোনো দল করতেন না এবং শ্রমিকের কাজ করতেন।

হাসপাতালে হতাহতের অবস্থা মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রুহুল আমিন নিশ্চিত করেন যে, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুইজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তিনি বলেন, “এদের মধ্যে একজন (আরিফ মিয়া) হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন। অপরজনকে (ইমরান) মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।”

পুলিশের পদক্ষেপ মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত ব্যক্তির মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে একাধিক বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দল ভারী করার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিএনপির এই দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়তে থাকে। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বরও দুপক্ষের দ্বন্দ্বে আটজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।