জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এখন অপ্রাসঙ্গিক এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ একাই যথেষ্ট। তিনি একইসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘মামলা তুলে নেওয়া’ সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন এবং এটিকে গত এক বছরের ‘মামলা বাণিজ্যের’ স্বীকৃতি বলে অভিহিত করেছেন।
বুধবার (১২ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কক মিলনায়তনে ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের ঘোষিত ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি প্রসঙ্গে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “শুনলাম কাল নাকি আওয়ামী লীগের লকডাউন। কালকে সব দল মাঠে থাকবে। আওয়ামী লীগকে মাঠে ঠেকানোর জন্য তো আমাদের এক হাসনাত আবদুল্লাহই যথেষ্ট। হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এনসিপির এক হাসনাত আবদুল্লাহ এই বাংলাদেশে যথেষ্ট। এটা নিয়ে আমাদের কোনো টেনশন নেই। আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে মরণ হয়ে গিয়েছে। এখন কিছু দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, দেশবাসীর এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।”
মির্জা ফখরুল ও বিএনপি’র সমালোচনা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কর্তৃক আওয়ামী লীগের মামলা তুলে নেওয়া সংক্রান্ত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, “আরেকটি খবর এসেছে—আওয়ামী লীগের নাকি মামলা তুলে নেওয়া হবে। মামলা তো তুলেই নিয়েছে গত এক বছর টাকার বিনিময়ে। নতুন করে আর কী তুলবেন? বিএনপি গত এক বছরে যে মামলা বাণিজ্য করেছে, সেগুলোর স্বীকৃতি মির্জা ফখরুল দিলেন, তাদেরকে জায়েজ করে নিলেন।”
তিনি বিএনপি’র সাম্প্রতিক কার্যক্রমকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “চাঁদাবাজি এবং মামলা বাণিজ্য— এই দুইটা ছাড়া গত এক বছরে বিএনপির ইতিহাসে আর কোনো কাজ লেখা নেই। বিএনপির যদি এক বছরের সফলতা বলেন, তাদের দুইটা সফলতা— একটা হলো চাঁদাবাজি, আরেকটা হলো মামলাবাজি। এই দুইটা নিয়ে তারা জনগণের সামনে গিয়ে ভোট চাইবে। ভোট নয়, মানুষ তাদেরকে জুতা দেবে।”
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আমরা একটু বিভাজন দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু বাংলাদেশের সার্বভৌম, গণতন্ত্র ও অখণ্ডতা রক্ষা করার জন্য বর্তমান যে পরিস্থিতি রয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সব দলকে একসঙ্গে হতে হবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সব দল একসঙ্গে হয়ে যদি ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে রক্ষা না করে, তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দুর্গতি রয়েছে।”