শেখ হাসিনার রায় ঘিরে ট্রাইব্যুনালে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

0
51

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায়ের দিন নির্ধারণের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল চত্বরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ট্রাইব্যুনাল চত্বরে নিয়োজিত রয়েছেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তল্লাশি চালিয়ে জনসাধারণ ও সাংবাদিকদের আদালতের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

dhakapost

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রায়ের তারিখ ঘিরে কেউ যেন কোনো ধরনের উসকানিমূলক কার্যকলাপ বা বিশৃঙ্খলা ঘটাতে না পারে, সেজন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, যাতে আদালতের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

আজ সকাল ১০টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

গত ২৩ অক্টোবর এই মামলায় সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিশ্বের হেভিওয়েট নেতাদের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার উদাহরণ টেনে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন।

এই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়:

  1. উসকানি

  2. মারণাস্ত্র ব্যবহার

  3. আবু সাঈদ হত্যা

  4. চানখারপুলে হত্যা

  5. আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো

মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এতে ৮৪ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

এ মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নামও রয়েছে। তিনি রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। যুক্তিতর্কে তার চরম দণ্ড বা সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হলেও, প্রসিকিউশন তার ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। মামুনের আইনজীবী তার অ্যাকুইটাল (খালাস) চেয়েছেন। রায় ঘোষণার দিন জানা যাবে তার ভবিষ্যৎ।

শেখ হাসিনার রায়ের দিন নির্ধারণ ঘিরে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ কারণে দলটির নেতাকর্মীরা আগুন-ককটেলসহ বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন। তবে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এমন কর্মকাণ্ডে তারা কোনো ধরনের অনিরাপদ বোধ করছে না।