দুই শতাধিক পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প

0
80

ক্রমবর্ধমান খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট রাজনৈতিক চাপের মুখে নতিস্বীকার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই শতাধিক খাদ্যপণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার তিনি এ সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি শনিবার এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মার্কিনিদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির উদ্বেগকে অগ্রাহ্য করলেও, গত সপ্তাহে মেয়র নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির খারাপ ফলাফলের পর তিনি এই বিষয়ে মনোযোগ দিতে বাধ্য হন। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এই নতুন শুল্ক ছাড় গত ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে।

দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর ট্রাম্প বিশ্ববাণিজ্যের ওপর ব্যাপকভাবে শুল্ক চাপিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছিলেন। এতদিন তিনি দাবি করে আসছিলেন যে, তার আরোপিত শুল্কের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির কোনো সম্পর্ক নেই। বরং তিনি এটিকে ডেমোক্র্যাটদের ‘প্রতারণা’ এবং মার্কিনিদের মধ্যে ‘ক্রয়ক্ষমতা’ একটি নতুন শব্দ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য এবং নাগরিকদের দেশীয় পণ্য কিনতে উৎসাহিত করার জন্য শুল্ক প্রয়োজনীয়।

কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় কফি, কলা, গরুর মাংসের মতো খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

কোন কোন পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার?

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুল্ক প্রত্যাহারের তালিকায় রয়েছে আম, কমলা, কলা, আনারস, পেয়ারা, লেবু, চা, কোকো, টমেটো, গরুর মাংস সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য। এছাড়াও, বেশ কয়েকটি মশলা এবং সারের ক্ষেত্রেও শুল্কে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্সের তথ্য অনুসারে, মার্কিন বাজারে গরুর কিমার দাম এক বছরে ১৩ শতাংশ বেড়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া কলার দাম ৭ শতাংশ এবং টমেটোর দাম ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের দাম সামগ্রিকভাবে ২.৭ শতাংশ বেড়েছে, যা সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতেই শুল্ক নিয়ে অবস্থান থেকে পিছু হটলেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউজ বিবৃতিতে জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ‘পারস্পরিক সুবিধাজনক’ অবস্থানে আনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামীতে আরও শুল্ক ছাড়ের পরিকল্পনা আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় প্রয়োজন হবে না। আমরা কিছু খাবারের ওপর থেকে শুল্ক কিছুটা প্রত্যাহার করেছি। যেমন কফির দাম একটু বেশি ছিল; খুব শিগগিরই তা কমে যাবে।”