ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর জেলার নোগাম থানায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে সাতজন নিহত এবং আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার (১৫ নভেম্বর) মধ্যরাতে থানায় জব্দ করে রাখা বিস্ফোরক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য এবং ফরেনসিক দলের সদস্য ছিলেন। বিস্ফোরক পরীক্ষার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে শ্রীনগর প্রশাসনের দুইজন কর্মকর্তাও রয়েছেন।
একটি সূত্র জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর ৯২ ঘাঁটি হাসপাতাল এবং শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, নোগাম থানার পুলিশ সদস্যরা সম্প্রতি ওই এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের পোস্টার লাগানোর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছিল। পোস্টারের সূত্র ধরে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিল। এই ঘটনায় কয়েকজন চিকিৎসককেও গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে আদিল আহমেদ রাথের নামে এক চিকিৎসক ছিলেন, যিনি গত অক্টোবরে গ্রেপ্তার হন। তিনি এমন পোস্টার লাগাচ্ছিলেন, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ও কাশ্মীরে বহিরাগতদের ওপর বড় হামলার হুঁশিয়ারি ছিল। তাকে গ্রেপ্তারের পর একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া যায়, যা দিল্লিতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় জড়িত ছিল এবং সেই হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই তদন্তের সূত্রেই উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক থানায় জব্দ ছিল।