নারী যাত্রাশিল্পীকে মারধর ও নির্যাতনের ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার

0
48

ময়মনসিংহে এক নারী যাত্রাশিল্পীকে মারধর, চুল কেটে দেওয়া এবং মুখে কালি মাখিয়ে চরম হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ গত বৃহস্পতিবার রাতে শাহ আলম (৪০) নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকালে গ্রেপ্তারকৃত এই আসামিকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার যাত্রাশিল্পীর নাম মোছা. রুপা। তিনি নগরের বড় কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের স্ত্রী এবং বর্তমানে নগরের পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।

গ্রেপ্তার হওয়া শাহ আলম চরকালীবাড়ি এলাকার মো. রাশেদের ছেলে। তিনি মামলার ৩ নম্বর আসামি এবং বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে তাকে জুবিলী ঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে রুপা বড় কালীবাড়ি লোকনাথ মন্দির-সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের একটি বস্তিতে বাস্তুহারা সমবায় সমিতির কাছ থেকে তিন লাখ টাকায় একটি জমি কিনেছিলেন। গত বছর সেখানে ঘর তৈরি করতে গেলে সমবায় সমিতির সদস্য শাহ আলম এক লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার পরও আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।

মামলা-১ (হামলা): টাকা দিতে অস্বীকার করায় গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর রুপার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় রুপা আদালতে মামলা করেন।
মামলা-২ (অপহরণ): এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল রুপার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে মো. রনি সুলতানকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় ৯ এপ্রিল মামলা হলে আসামি শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

রুপার করা একটি ভাঙচুর মামলার তদন্তের জন্য পুলিশ বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মাসুদ জামেলী জানান, পুলিশ তদন্ত শেষে ফিরে আসার পরই প্রতিপক্ষরা রাস্তায় রুপাকে ধরে নিয়ে যায়।

রুপার অভিযোগ, “পুলিশ চলে যাওয়ার পরই আমাকে রাস্তায় ধরে নিয়ে গিয়ে বেঁধে চুল কেটে মুখে কালি মেখে দেয়।”

নির্যাতনের সময় তাকে বেঁধে মারধর করা হয় এবং তার সামনে মাদক ও টাকা রেখে সেটির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে রুপার স্বামী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, “ওই নারীর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং ওই নারীর ওপর নির্যাতন চালানোয় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”