নির্বাচনের নেতৃত্বে থাকবে না বিতর্কিত পুলিশ সদস্য: আইজিপি

0
97

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনীর বিতর্কিত কোনো সদস্যকে নেতৃত্ব স্থানে রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি জানান, এখনো তালিকা চূড়ান্ত না হলেও সংশ্লিষ্ট জেলার এসপি ও ডিআইজিরা বিগত সময়ের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করার কাজ করছেন।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) লাইনে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে আইজিপি এসব তথ্য জানান। এর আগে তিনি আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যোগ দেন।

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, দেশের মানুষ নির্বাচনের জন্য উদগ্রীব এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮, ২০২৪) নিয়ে যে বিতর্ক ও সমালোচনা ছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুলিশ এবার বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, “বিগত তিনটি নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশের কিছু সদস্য কোনো কারণে দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়েছে বা ভুল করতে বাধ্য হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই প্রশিক্ষণ নিচ্ছে পুলিশ। যাতে করে অতীতের ভুলগুলো শুধরে নেওয়া যায়।”

আইজিপি আরও যোগ করেন, “আমি আমার ৩৫ বছরের পুলিশি জীবনে শুনি নাই নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশকে প্রশিক্ষণ নিতে হয়! তবে এবারই প্রথম নির্বাচনী প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছি। আমরা ভুলগুলো করেছি, অথবা করতে বাধ্য হয়েছি, সেগুলো আর যেন না করি, ওই ভুলগুলো যেন শুধরাতে পারি, এজন্য সমস্ত ব্যাড প্র্যাকটিস, ম্যাল প্র্যাকটিস না করি, পক্ষপাতিত্ব না করি। সব ঝেড়ে ফেলে দিয়ে ইন্টারিম গভমেন্টের যে অঙ্গীকার, সেই অঙ্গীকার সবচাইতে সুন্দর একটা নির্বাচন তা আমরা পূরণ করতে পারব।”

আইজিপি স্পষ্ট করে জানান, “কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবে না। বর্তমান সরকার চায় একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সফল নির্বাচন। তাই আমরা পুলিশও সেটি চাই। পুলিশ নির্বাচন কমিশনের ডিরেকশন মেনে চলবে। নির্বাচন কমিশনও যথেষ্ট আন্তরিক। আমাদের বিশ্বাস আমরা সফল হবো।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আইজিপি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে থেকে মাঠে থাকবেন। নির্বাচনের আগে পাঁচ দিন, নির্বাচনের দিন এবং পরবর্তী আরও তিন দিন—এই মোট ৯ দিনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে।

আইন প্রয়োগের বিষয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশ ক্রসফায়ার দিয়ে সন্ত্রাস দমন করতে চায় না, বরং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে চায়। অপরাধীকে আদালতে প্রেরণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই বর্তমান পুলিশের লক্ষ্য।

সাইবার সন্ত্রাস প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এই জায়গায় পুলিশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি বলেন, “কিছু ব্যক্তি মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে সোস্যাল মিডিয়ায় এআই দিয়ে যা ইচ্ছা তাই ভাইরাল করছে। আমরা প্রথমে বিটিআরসিকে জানাই। বিটিআরসি ফেসবুকের মেটাকে জানায়। অনেক সময় ৪০ ভাগ সেগুলো অপসারিত করে মেটা। সবগুলো পরিত্যাজ্য করে না। এখানে পুলিশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।”

এ সময় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজউল করিমসহ খুলনা বিভাগের পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।