ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদ পেতে রংপুরের ব্যবসায়ীকে হত্যা করে বন্ধু জরেজুল ও তার প্রেমিকা

0
85

রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে ১০ লাখ টাকা আদায়ের উদ্দেশ্য ছিল তার বন্ধু জরেজুল ইসলাম এবং জরেজুলের প্রেমিকা শামীমা আক্তার ওরফে কোহিনূরের। এই নৃশংস পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আশরাফুলকে হত্যা করে তার মরদেহ ২৬ টুকরো করে ড্রামে ভরে ফেলে দেওয়া হয়।

শনিবার সকালে কারওয়ান বাজারে র‍্যাব-৩ এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‍্যাব কর্মকর্তারা।

র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফিন জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়। জরেজুলের পরামর্শে কহিনূর প্রায় এক মাস আগে আশরাফুলের সঙ্গে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথা বলতেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১১ নভেম্বর আশরাফুলকে ঢাকায় আনা হয় এবং ১২ নভেম্বর তারা শনির আখড়ার নূরপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া করেন। রংপুর থেকে আসার আগেই জরেজুল কহিনূরকে অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে টাকা আদায়ের কথা জানান।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, কহিনূর আশরাফুলকে মাল্টার শরবতের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হালকা অচেতন করেন। এরপর তারা যখন একান্ত সময় কাটাচ্ছিলেন, তখন জরেজুল বাইরে থেকে সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, এরপর জরেজুল আশরাফুলকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন এবং মুখে কসটেপ দিয়ে আটকে দেন। শ্বাস নিতে না পারায় ঘটনাস্থলেই আশরাফুলের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে, জরেজুল ও কহিনূর বাজার থেকে কেনা দুটি ড্রামে আশরাফুলের মরদেহ ২৬ টুকরো করে ভরে ফেলেন। এরপর সিএনজি করে মরদেহ ভর্তি ড্রাম দুটি হাইকোর্ট মাজারগেটের কাছে ফেলে দেওয়া হয়।

গত ১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট সংলগ্ন এলাকায় দুটি নীল ড্রামের ভেতর থেকে অজ্ঞাত এক পুরুষের ২৬ খণ্ডের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে মরদেহটি নিখোঁজ ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের বলে শনাক্ত হয়।

নিহতের বোনের দায়ের করা হত্যা মামলার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে র‍্যাব-৩। তদন্তের ভিত্তিতে গত ১৪ নভেম্বর সকালে কুমিল্লার লাকসাম থেকে জরেজুলের প্রেমিকা শামীমা আক্তার কোহিনূরকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোহিনূরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার কাজে ব্যবহৃত রক্তমাখা পোশাক, দড়ি, স্কচটেপসহ অন্যান্য আলামত শনির আখড়ার নূরপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে র‍্যাব নিশ্চিত হয়েছে যে, ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়ই ছিল এই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতার বিষয় আছে কি না— তা প্রধান আসামি জরেজুলকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে পরিষ্কার হবে বলে র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান।