কুমিল্লা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। নাশকতার পরিকল্পনা এবং ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে রোববার ভোর ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে তাদের আটক করা হয়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এই আটকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সুপার জানান, আটককৃতদের মধ্যে ২৯ জনকে নগরীর টমছমব্রিজ, বাদুরতলা ও ধর্মসাগরপাড় এলাকা থেকে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে এবং ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আটক করা হয়। এছাড়াও জেলার অন্যান্য এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগের আরও ১৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তবে আটককৃতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আটকের সময় তাদের কাছ থেকে বাঁশের লাঠি, ব্যানার, গ্যাসলাইটসহ নাশকতার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ পুলিশের অভিযান শুরু হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঝটিকা মিছিল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনার খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালাই। তাদের কাছ থেকে নাশকতার পরিকল্পনার বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া গেছে।”
ওসি আরও যোগ করেন, “কুমিল্লায় আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নের উদ্দশ্যে সাবেক এমপি আ ক ম বাহারের মেয়ে তাহসিন বাহার সূচনার অর্থায়নে শহরে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।”
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, “আটকদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ব্যানার, লাঠিসহ অন্যান্য সরঞ্জামের ভিত্তিতে নাশকতার প্রস্তুতি সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।”