উচ্চ আদালতের জামিনে কারামুক্ত লতিফ সিদ্দিকী আদালতে হাজিরা দিলেন

0
42

উচ্চ আদালতের জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পর আজ রোববার (১৬ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। সাবেক এই মন্ত্রী তার ছোট ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকীকে সঙ্গে নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে আজ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই তৌফিক হাসান প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। আদালত পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন বলে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই জিন্নাত আলী নিশ্চিত করেছেন।

এদিন লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী রেজাউল করিম হিরণ তার মক্কেলের পক্ষে হাজিরা দেওয়ার আবেদন জানান। হিরণ আদালতকে বলেন, “তার বয়স ৮৬ বছর। তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেয়ার উপাদান রয়েছে।” আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন এবং এই আদেশের ফলে লতিফ সিদ্দিকীকে ভবিষ্যতে আর সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে হবে না।

সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে হাজিরা শেষে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

গত ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান বিষয়ক’ আলোচনা সভা চলাকালে ‘মব’ হামলার শিকার হন লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক পান্নাসহ ১৬ জন। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয় এবং পরদিন তাদের বিরুদ্ধেই শাহবাগ থানায় উল্টো মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ আনা হয়, তারা ‘দেশকে অস্থিতিশীল করা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে’ লিপ্ত ছিলেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে এবং ২৮ আগস্ট আলোচনা সভার আয়োজন করে। হট্টগোলকারী অংশগ্রহণকারীরা অনুষ্ঠানের দরজা বন্ধ করে কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে। মামলায় লতিফ সিদ্দিকী ছাড়া অন্য ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাবেক সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম ও আবু আলম শহীদ খানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আবেদন প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট ও জজ আদালতে নাকচ হলে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি সগীর হোসেনের বেঞ্চ গত ৬ নভেম্বর তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলেও ১০ নভেম্বর আপিল বেঞ্চ সেই জামিন বহাল রাখে। জামিনের নথিপত্র পৌঁছানোর পর ১২ নভেম্বর তিনি কেরাণীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।