আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ কর্তৃক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর তার সহযোগী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’। একইসঙ্গে, দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাজার রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) করার জন্য ট্রাইব্যুনালের প্রতি আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে শেখ হাসিনার রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের নেতারা এসব দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজ সেবা সম্পাদক ও জুলাই ঐক্যের সংগঠক এবি জুবায়ের বলেন, “আজকের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খুনি হাসিনার ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা লজ্জিত এটা দেখে যে, আমার ভাইদের ওপর ৩২ নাম্বারে হামলা করা হচ্ছে। জুলাই যোদ্ধাদের রক্তাক্ত করা হচ্ছে। অবিলম্বে প্রশাসনের এ নেক্কারজনক হামলা বন্ধ করতে হবে।”
মামুনের রায়ের রিভিউয়ের দাবি:
তিনি ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, “যখন লীগের সন্ত্রাসীরা অগ্নিসন্ত্রাস করে, তখন সবাই চুপ। কাউকে গ্রেপ্তার দূরের কথা, সামনেও আসে না। অথচ আজ যখন আওয়ামী লীগের কেবলা ৩২ নাম্বারের দিকে ছাত্র জনতা যেতে চাইল, তখন শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা সরকারকে স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি অবিলম্বে ছাত্র জনতার ওপর হামলা বন্ধ করুন।”
এবি জুবায়ের চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের ৫ বছরের সাজার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “সরকার হাসিনার ফাঁসি দিলেও পরিকল্পিতভাবে সাবেক পুলিশ প্রধানকে ৫ বছরের সাজা দিয়েছে। আমরা মামুনের রায়কে পুনরায় রিভিউ করার দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মামুনকে কেন রাজসাক্ষী করা হয়েছে, আমরা জানি না। এখানে একজন কনস্টেবলকে রাজসাক্ষী করা যেত, যারা মামুনের নির্দেশনায় ছাত্রজনতার ওপর গুলি চালিয়েছে। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল পরিকল্পিতভাবে মামুনকে রাজসাক্ষী করে মাত্র ৫ বছরের সাজা দিয়েছে।”
জুলাই ঐক্যের সংগঠক ও সাংবাদিক নেতা ইসরাফিল ফরাজী কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে কিছু কিছু গণমাধ্যম আসল রূপে ফিরে আসছে। ইত্তেফাক দীর্ঘ সময় ফ্যাসিবাদের সঙ্গে ছিল, তার সব অপকর্মের বৈধতা দিয়েছিল। সেই ইত্তেফাক খুনি হাসিনার বয়ান প্রচার করছে।”
তিনি সরকারের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলেন, “অথচ সরকার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল খুনি হাসিনার বক্তব্য প্রচারের জন্য। তার সঙ্গে আরটিভি, বাংলাদেশ জার্নালসহ আরো বেশ কিছু গণমাধ্যম এ বক্তব্য প্রচার করছে। অবিলম্বে এ সব গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে ছাত্রজনতা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক এবং ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক কবি বোরহান মাহমুদ, মুজাহিদুল ইসলাম (অন্তু মোজাহিদ), মাসুদুর রহমান, মুস্তফা হোসাইন, সাদীল আহমেদ প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলন শেষে জুলাই ঐক্য ও জাগ্রত জুলাই শাহবাগে শেখ হাসিনার প্রতীকী ফাঁসি কার্যকর করে এবং মিষ্টি বিতরণ করে তাদের আনন্দ প্রকাশ করে।