শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজার রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে’: মির্জা ফখরুল

0
57

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায়কে ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মনে করেন, এই রায়ের মাধ্যমে বিশ্ব জনমতের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন দুপুরে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের কারাদণ্ড ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনার ভিত্তিতে রায়ের বিষয়ে দলীয় পর্যবেক্ষণ লিখিত প্রস্তাবে গৃহীত হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন: “এতে পতিত স্বৈরাচার ও তার দোসরদের মানবতাবিরোধী নৃশংস, জঘন্য হত্যাকাণ্ড এবং গণহত্যায় অপরাধীদের বিচারে বিশ্ব জনমতের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয়েছে।”

বিএনপি মহাসচিব দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন: “দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ এর ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। এই দীর্ঘ রক্তাক্ত সংগ্রামে শত সহস্র বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের অসংখ্য নাগরিক গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মামলা-হামলা, নির্যতন-নিপীড়ন ও অবর্নণীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক নাগরিকের আত্মদান এবং অবর্ণনীয় ত্যাগের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার শাসনামলের পতন হয়েছে।

মির্জা ফখরুল দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন: “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দুই দোসরের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হয়েছে। আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিএনপি এ ব্যাপারে জনগণকে সদা সর্বদা সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।” তিনি একইসঙ্গে অন্যান্য মামলায় অভিযুক্তদেরও সুবিচার প্রাপ্তির দাবির বিষয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

বিএনপি মহাসচিব আশা প্রকাশ করেন যে এই রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছরের গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে এবং তাদের পরিবার পরিজনদের ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে।