রাউজানে যৌথ অভিযান: দেশি–বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ৫

0
90

চট্টগ্রামের সন্ত্রাসকবলিত রাউজানে জেলা পুলিশ, র‌্যাব-৭, নৌ–পুলিশ ও ৯ এপিবিএন যৌথভাবে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে দেশি–বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সান্তু এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জেলার আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও অবৈধ অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অংশ হিসেবে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানের সময় রাউজান থানার নোয়াপাড়া, বাগোয়ান, পূর্ব ও পশ্চিম গুজরা, সুলতানপুর, কদলপুর, রাউজান ইউপি ও পৌরসভা এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। একই সঙ্গে ১৭টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হয়।

অভিযানে ৮টি এলজি, ৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১৪টি ছোরা, ৩টি রামদা, ২টি চাপাতি, ২টি তলোয়ার, ১টি কিরিচ ও ১টি ইলেকট্রিক কাটারসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। চেকপোস্টে ২৮টি মোটরসাইকেল ও একটি ট্রাক আটক করা হয় এবং মোটরযান আইনে দায়ের করা হয় ৩৭টি মামলা। এছাড়া আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-৭ এর অভিযানে উদ্ধার হয় ৩টি এলজি, ২টি তলোয়ার ও ১টি কিরিচ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, রাউজানের আলোচিত ব্যবসায়ী হাকিম হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলায় উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৪টি বিদেশি পিস্তল, ১টি রিভলভার, ১টি চায়না রাইফেল, ১টি শর্টগান, ২টি এলজি, ৮৫ রাউন্ড গুলি, ৭টি ম্যাগাজিন, ২টি রামদা, ৫টি ছুরি ও একটি মোটরসাইকেল।

তিনি আরও জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৫৭৭টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৬২টি গুলি ও ২০৬ রাউন্ড কার্তুজ। অস্ত্র আইনে ৯৬টি মামলা দায়ের এবং ১৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু চলতি নভেম্বর মাসে রাউজান থানায় অস্ত্র আইনে ১০টি মামলা দায়ের, আটজন গ্রেফতার এবং ২৪টি অস্ত্র, ৮৫ রাউন্ড গুলি ও ৩২টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।