পারমাণবিক বিস্ফোরণ সহনশীল ভাসমান কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ করছে চীন

0
56

বিশ্বে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিস্ফোরণ সহ্য করতে সক্ষম এক ভ্রাম্যমাণ কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ করছে চীন। ৭৮,০০০ টন ওজনের এই আধা-নিমজ্জনযোগ্য টুইন-হাল প্ল্যাটফর্মটি কেবল চীনের সামুদ্রিক প্রযুক্তির নতুন মাইলফলকই নয়, বৈশ্বিক সামুদ্রিক শক্তির প্রতিযোগিতায়ও বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

বিশ্বের প্রথম স্বনির্ভর ভাসমান কৃত্রিম দ্বীপ হিসেবে এর বিশেষত্ব হলো—এটি পুনঃসরবরাহ ছাড়াই চার মাস ধরে ২৩৮ জনকে ধারণ করতে পারবে এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির নতুন ফুজিয়ান বিমানবাহী জাহাজের সমমানের সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালে এই প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহারে আসবে।

চীনের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগতভাবে এটি একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা সুবিধা হলেও এর গোপন শক্তি রয়েছে পারমাণবিক বিস্ফোরণ–প্রতিরোধী কাঠামোতে। উন্নত ‘মেটামেটেরিয়াল’ স্যান্ডউইচ প্যানেল ব্যবহার করে এই প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরণের ধ্বংসাত্মক ধাক্কা সাধারণ চাপ হিসেবে শোষিত হয়।

প্রশ্ন উঠেছে—একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের পারমাণবিক বিস্ফোরণ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রয়োজন কেন? ৪ নভেম্বর চাইনিজ জার্নাল অফ শিপ রিসার্চ-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়াং ডেকিং–এর নেতৃত্বাধীন দল লিখেছে, “এই গভীর সমুদ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক সুবিধাটি সর্বাবস্থায়, দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এর উপরের অংশে রয়েছে জরুরি বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও নেভিগেশন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা—যেগুলোর জন্য পারমাণবিক বিস্ফোরণ–সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

গবেষকদের মতে, এই প্রকল্প দক্ষিণ চীন সাগরসহ বিরোধপূর্ণ জলসীমায় চীনের ক্ষমতা ও উপস্থিতি বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।

(সূত্র: এসসিএমপি)