ইমাম–উলামা থাকা সত্ত্বেও কেন অন্যায়, দুর্নীতি, চুরি ও অর্থপাচার বাড়ছে? মির্জা ফখরুল

0
64

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে অসংখ্য মুসলমান, মাদ্রাসা, মসজিদ ও ইমাম–উলামা থাকা সত্ত্বেও কেন অন্যায়, দুর্নীতি, চুরি ও অর্থপাচার বাড়ছে—তা বোধগম্য নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একটা মসজিদ তৈরি করতে মানুষ যে উদ্যম দেখায়, ভালো মানুষ তৈরির আগ্রহ কোথায় হারিয়ে যায়?”

শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষার কেয়ারটেকারদের আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ধর্ম ও নৈতিকতা সমাজে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করার বিষয়ে দেশে আরও গভীর আলোচনা ও উদ্যোগ প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে সরকার যেই হোক, শক্তিশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ‘গণতান্ত্রিক অ্যাসোসিয়েশন অব উলামা’কে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপিকে ‘উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ফখরুল অভিযোগ করেন, গত ১৫–১৬ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে মানুষের ভোটাধিকারসহ ধর্ম পালনের অধিকার পর্যন্ত সংকুচিত হয়েছে। তিনি সমালোচনা করেন, কিছু আলেম–ওলামা শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়ায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তার দাবি, দলীয়করণে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই অসংখ্য অপকর্ম চোখে পড়ে। নৈতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে দেশে হত্যা, রাহাজানি ও অপরাধ অনেকটাই কমে আসত। নৈতিকতার উৎস হিসেবে মাদ্রাসা, স্কুল, শিক্ষক ও পরিবারকে শক্তিশালী করাকে তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ইসলামী ফাউন্ডেশনকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর এবং রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন নির্বাচনই গণতান্ত্রিক সরকার ও সংসদ গঠনের পথ তৈরি করবে, যেখানে জনগণের সমস্যা তুলে ধরা ও সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।