নামে-বেনামে ভুয়া ঋণ দেখিয়ে ৯ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে থাকা আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) মো. আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তিনি ব্যাংকটির নোয়াখালীর সেনবাগ ও দত্তেরহাট শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের একটি বাসা থেকে র্যাব-১১ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে রোববার (৩০ নভেম্বর) তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নোয়াখালী কার্যালয়ের তদন্ত টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব ও দুদক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন ব্যাংকের দায়িত্বে থাকাকালে ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেন। তিনি ঋণ গ্রহীতা হিসেবে এমন সব ব্যক্তির নাম ব্যবহার করেছেন যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। এছাড়া ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এবং প্রকৃত গ্রাহকদের অজান্তেই তাদের নামে ঋণ তুলে তিনি মোট ৯ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
চলতি বছরের অক্টোবর মাসে এই জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এরপর ২০ অক্টোবর দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট অভিযান চালিয়ে ব্যাংক থেকে রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করে জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ পায়। এছাড়া ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও এই বিপুল অর্থ আত্মসাতের সত্যতা মেলে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে নোয়াখালী স্পেশাল সিনিয়র জজ আদালতে দুদকের পক্ষ থেকে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে দুদক নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংকের দুটি শাখা থেকে ৯ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ম্যানেজার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। র্যাবের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তারের পর আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নোয়াখালীর উপ-পরিচালক ও জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সুজন মিয়া বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন সদস্যদের নামে ভুয়া ঋণ দেখিয়ে আলমগীর হোসেন অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। দুদক ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।’