জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আজ (রোববার) প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণও অনুষ্ঠিত হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিকে অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে রিভিউ করে ইনু ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’কে ‘সো-কলড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা প্রসিকিউশন রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল বলে দাবি করেছে। রিভিউ আবেদন খারিজে আজ আদেশ আসতে পারে।
গত ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। সেদিন অভিযোগগুলো পড়ে শোনানোর পর নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন ইনু। এর আগে ২৮ অক্টোবর ইনুর পক্ষে শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী অভিযোগগুলো ‘অসত্য’ উল্লেখ করে অব্যাহতি চান। তবে প্রসিকিউশন বলে, ১৪ দলীয় শরিক হিসেবে ইনু দায় এড়াতে পারেন না।
এরও আগে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন জুলাই–আগস্টে কুষ্টিয়ায় সহিংসতায় সহযোগিতাসহ সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ জমা দেয়। শুনানি শেষে অভিযোগ আমলে নিয়ে ইনুর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়।
গত বছরের ২৬ আগস্ট উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই কারাগারে আছেন সাবেক তথ্য ও জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
জুলাই–আগস্টের আন্দোলনে কুষ্টিয়া শহরে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু মানুষ। এসব ঘটনার অভিযোগেই ইনুর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের হয়।
প্রসিকিউশন ইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার ফরমাল চার্জ, ২০ জন সাক্ষী এবং তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও নথি পেশ করেছে।