সৌদি আরব ও কাতার উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম উচ্চগতির রেলপথ নির্মাণে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রিয়াদ ও দোহার মধ্যে দ্রুতগতির রেল সংযোগ স্থাপনের এই প্রকল্পে স্বাক্ষর করেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বপূর্ণ সম্পর্ক কাটিয়ে এটি দুই দেশের সহযোগিতা ও সংযোগ বৃদ্ধির নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিয়াদের কিং সালমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত রেললাইন তৈরি হবে, যার সঙ্গে সৌদির আল-হফুফ ও দাম্মাম শহরও যুক্ত থাকবে। ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন বৈদ্যুতিক এই রেলপথ চালু হলে রিয়াদ-দোহা যাত্রা মাত্র দুই ঘণ্টায় সম্পন্ন হবে, যা বর্তমানে বিমানপথে প্রায় ৯০ মিনিট সময় লাগে।
ছয় বছরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চালু হলে এটি বছরে এক কোটি যাত্রী পরিবহন করতে পারবে এবং সৌদি আরব ও কাতারে প্রায় ৩০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
২০১৭ সালে কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিশর একযোগে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। ২০২১ সালের আলউলা সম্মেলনের মাধ্যমে সেই সংকট শেষ হয়। সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে দুই দেশের নেতারা নিয়মিত বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন এবং আঞ্চলিক ইস্যু—বিশেষত গাজায় চলমান যুদ্ধ ও যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা—নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের ওপর ইসরায়েলি হামলার সময় সৌদি আরব কাতারের পাশে দাঁড়ানোও দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে ভূমিকা রাখে।
উচ্চগতির এই রেল প্রকল্প শুধু যাত্রী পরিবহনই সহজ করবে না; বরং দুই দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে এটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।