বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম রূপকার, সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার, বীর উত্তম আর নেই। আজ শনিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ কে খন্দকার ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিবনগর সরকারের অধীনে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণ, অপারেশন পরিচালনা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণে তার অবদান ছিল অপরিসীম। বিশেষ করে ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম ইউনিট ‘কিলো ফ্লাইট’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সীমিত সম্পদে আকাশপথে যুদ্ধের সূচনা করেছিলেন তিনি। ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বাহিনীকে একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠিত করেন। তার অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১১ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করেন। তার সম্মানে ঢাকার কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটির নামকরণ করা হয়েছে ‘বিএএফ ঘাঁটি এ কে খন্দকার’।
পেশাগত জীবনের বাইরে তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-২ (বেড়া-সুজানগর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এই প্রবীণ সমরনায়কের মৃত্যুতে দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।