শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের নিরাপত্তায় বোনকে গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স দিচ্ছে সরকার

0
39

ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী ইনকিলাব মঞ্চের প্রয়াত মুখপাত্র এবং ‘শহীদ’ ওসমান হাদির পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওসমান হাদির এক বোনকে ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স ও একজন গানম্যান প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে ওই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশি সুরক্ষা প্রদানেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জুলাই আন্দোলনের অগ্রসেনানী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সমন্বয়ক এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সরকার এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থাকা বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে গানম্যান দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। মূলত জুলাই বিপ্লবের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই জুলাই আন্দোলনের বিপ্লবীরা নানাভাবে হুমকির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পলাতক নেতাকর্মীরা দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে এসব ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে অপপ্রচার ও হুমকি দিচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিও দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের হুমকির লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে।

পরিবার ও গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে ওসমান হাদিকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। গত ১২ ডিসেম্বর জুম্মার নামাজের পর রাজধানীর একটি এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা নতুন করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমন পরিস্থিতিতেই সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

বর্তমানে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র এবং বিপ্লবের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গের ওপর হামলার আশঙ্কা রুখতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা প্রটোকল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় থানা পুলিশকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।