চট্টগ্রাম বন্দরে আজ শুক্রবার ডিজেলবাহী তিনটি ট্যাংকার জাহাজ ভিড়ার কথা রয়েছে। এছাড়া আগামী রোববার আরো একটি ট্যাংকার পৌঁছাবে। সব মিলিয়ে চারটি জাহাজে করে দেশে আসছে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল, যা দিয়ে প্রায় ১২ দিনের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার( ১৬ এপ্রিল) পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুত ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার টন। নতুন করে আসা চারটি ট্যাংকারের ডিজেল খালাস হলে মোট মজুত বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৯৬ হাজার টনে। এতে প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আজ বন্দরে এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি ও এমটি লিয়ান সং হু নামের তিনটি ট্যাংকার পৌঁছাবে। এছাড়া এমটি গোল্ডেন হরাইজন নামের আরেকটি ট্যাংকার রোববারে ভিড়ার কথা রয়েছে।
চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী তিন দিনের মধ্যেই সব জাহাজ বন্দরে পৌঁছে যাবে।
চলতি মাসে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, নতুন চালান আসায় তা কেটে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের মোট চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন, যার বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
ডিজেল দেশের পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বাস, ট্রাকসহ অধিকাংশ পণ্যবাহী যানবাহন ডিজেলচালিত। এছাড়া কৃষিতে সেচযন্ত্র, নৌপথে নৌযান এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার জেনারেটর চালাতেও ডিজেল অপরিহার্য। দেশের মোট ব্যবহৃত ডিজেলের প্রায় ২৪ শতাংশই কৃষিখাতে ব্যবহৃত হয়। বিদ্যুৎ সংকটের সময় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রেও এ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়।