কর্মঘণ্টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধান বিচারপতির কঠোর হুঁশিয়ারি

0
50

ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আদালতের কর্মঘণ্টার মধ্যে কোনো বিচারকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ নেই। যদি কর্মঘণ্টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেদিনই সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিচারিক জীবনের শেষ দিন হবে।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অভিভাষণে দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি আদালতের পরিবেশ উন্নয়ন, দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি, সততা বজায় রাখা এবং কোর্ট প্রাঙ্গণ বহিরাগতমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

অভিভাষণে তিনি জানান, বিচার বিভাগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। বিচার আসনে বসে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, শুনানি শেষে তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে রায় বা আদেশ প্রকাশ করতে হবে। রায় দিতে অযথা বিলম্ব হলে পুনরায় নথি পর্যালোচনার প্রয়োজন পড়ে, এতে সময় নষ্ট হয় এবং বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হন। তাই আদালতের কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

কোর্ট প্রাঙ্গণের শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, আইনজীবী ও মামলার পক্ষগণ ছাড়া অন্য কেউ যেন এজলাস কক্ষে প্রবেশ না করে। আদালতকে বহিরাগতমুক্ত রাখতে হবে। কোর্ট প্রাঙ্গণে চা, বাদাম, ডাব বিক্রেতা কিংবা হকারদের প্রবেশে কোনো অনুমতি দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে আইনজীবীরা যেন নির্ধারিত ড্রেসকোড মেনে চলেন, সে বিষয়েও বিচারকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, অধস্তন আদালতের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতের কর্মঘণ্টা নির্ধারিত থাকে। এই সময়ের মধ্যে মধ্যাহ্নভোজ ও নামাজের জন্য নির্ধারিত বিরতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিম্ন আদালতের একাধিক বিচারক।