একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই

0
45

বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরায় জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কন্যা অঞ্জনা বড়ুয়া।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোকের পর তার ডান পা অবশ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত এক সপ্তাহ তিনি চট্টগ্রামের একটি মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে জে কে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

সুকুমার বড়ুয়া ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও লেখালেখির প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে তিনি স্বাধীনভাবে সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে একটি বেড়ার ঘর ভাড়া করে নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন।

কচিকাঁচার আসর, খেলাঘর ও মুকুলের মাহফিলসহ বিভিন্ন শিশু-কিশোর সাহিত্য পত্রিকায় তার ছড়া নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে। দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছরের সাহিত্যজীবনে তিনি ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’ ও ‘ছড়াসম্রাট’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ব্যঙ্গ, হাস্যরস, নৈতিক শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজনৈতিক সচেতনতা—সবই উঠে এসেছে তার লেখায়।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া, চিচিং ফাঁক, প্রিয় ছড়া শতক, নদীর খেলা, ছোটদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া, সুকুমার বড়ুয়ার ছড়াসম্ভার (দুই খণ্ড) ও জীবনের ভেতরে বাইরে।

ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য জাতীয় ও বেসরকারি সম্মাননা লাভ করেন।

তার মৃত্যুতে বাংলা শিশু ও ছড়াসাহিত্যে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।