শুল্ক কমানো হয়েছে, এনইআইআর বন্ধ হবে না: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

0
26

মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা হলেও ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বা অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া কোনোভাবেই বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মোবাইল ফোন আমদানির শুল্কহার কমিয়েছে। পাশাপাশি কর ফাঁকি দিয়ে আনা হ্যান্ডসেট বৈধ করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। এরপরও দোকানপাট বন্ধ রেখে সড়ক অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ‘অপরাধের লাইসেন্স’ দাবি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বিটিআরসি ভবন পরিদর্শন করেন। বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী ভাঙচুরের ফলে সংস্থাটির ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।

এদিকে কয়েক দফা দাবি আদায়ে রোববার কারওয়ান বাজার মোড়ে ফের জড়ো হন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে আবারও সংঘর্ষে জড়ান আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের পর থেকে থেমে থেমে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সেনা ও র‍্যাব সদস্যদেরও নামানো হয়। পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে সাতটি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে।

এর আগে সকালে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। সে সময় জলকামান, রায়টকার ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আবার সড়কে বসে পড়লে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং পরে আন্দোলনকারীদের আশপাশের শপিংমলের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) জানিয়েছে, এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারদের মুক্তিসহ একাধিক দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সংগঠনটি পরিবারসহ অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধের কারণে বসুন্ধরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গত ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।