ধানমন্ডিতে ১০ জনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পিবিআইয়ের

0
53

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ধানমন্ডিতে ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় আহতদের খুঁজে না পাওয়ায় শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অব্যাহতির সুপারিশকৃত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ মোট ১১৩ জন।

এর আগে গত ৫ নভেম্বর ‘তথ্যগত ভুল’ থাকার কথা উল্লেখ করে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞা। এ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি।

এজাহার অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনা বাজারের সামনে হামলার শিকার হন সাহেদ আলী। এ সময় ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট ৯ জন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়।

ঘটনার পর সাহেদের কথিত ভাই শরীফ ধানমন্ডি থানায় শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞা গণমাধ্যমকে বলেন, “জুলাই আন্দোলনে আহতদের নিয়ে গেজেট হয়েছে। এ মামলায় যে সব আহতের নাম উল্লেখ আছে, সেই সরকারি গেজেটে তাদের নাম পাইনি। তথ্যগত ভুলের কারণে আপাতত আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে প্রতিবেদন দিয়েছি। পরবর্তীতে যদি প্রকৃত আহতদের তথ্য পাওয়া যায়, তখন অভিযোগপত্র দেওয়া যাবে।”

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—এজাহারে উল্লেখিত আহত সাহেদ আলী, রাশেদ, জুয়েল, মাহমুদ, নাহিদ, রাসেল, মিরাজ, জান্নাতুল ফেরদৌস নাঈমা, আইশা আক্তার ও সাম্মি আক্তারের কোনো সন্ধান পাননি তদন্ত কর্মকর্তা।

এছাড়া তারা কোথায় চিকিৎসা নিয়েছেন—কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা অন্য কোথাও—তারও কোনো নথি বা তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ অবস্থায় প্রমাণের অভাবে আপাতত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সুপারিশ না করে অব্যাহতির মত মতামত দিয়েছে পিবিআই। মামলাটি এখন আদালতের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।