পর্তুগালে গত কয়েকদিন ধরে প্রবল ঝড়ো বাতাস ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার প্রভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঝড়জনিত বিভিন্ন ঘটনায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে চারজন কেন্দ্রীয় পর্তুগালের লেইরিয়া অঞ্চলে এবং একজন লিসবনের উত্তরাঞ্চলীয় ভিলা ফ্রাঙ্কা দে শিরা এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ঝড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে বহু বাড়িঘরের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সড়ক যোগাযোগে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। রাজধানী লিসবনসহ উপকূলবর্তী কয়েকটি অঞ্চলে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
টানা ভারী বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। কয়েকটি অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছালে বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
বৈরি আবহাওয়ার কারণে কৃষিখাতেও ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় ক্ষেতের ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা।
প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড় ও বৃষ্টিজনিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য এবং আর্থিক ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। জনগণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।