বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যুবসমাজকে বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করার চিন্তা তাদের নেই; বরং দেশের উন্নয়নের কারিগর হিসেবে গড়ে তুলে যুবকদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চান তারা। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফেনীর বাঁধ ভাঙা ও মানুষের দুর্ভোগের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে একসময় পুরো ফেনী জেলা যেন সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও তিনি নিজে কোমর পানি পেরিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। সেদিন মানুষের কষ্ট দেখে কেবল চোখের পানি ফেলতে পেরেছিলেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শুধু উন্নয়নের নয়, ফেনীবাসীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন।
ফেনীবাসীকে আশ্বস্ত করে জামায়াত আমির বলেন, যে বাঁধের কারণে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, সেটির স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান বের করা হবে, কারণ দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।
জনসভায় ফেনীর উন্নয়ন নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ কোটি মানুষের দেশে ৬৪টি জেলার কোনোটিই জেলা মেডিকেল কলেজ থেকে বঞ্চিত থাকবে না। ফেনীতেও একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি ফেনীর স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু হিসেবে গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
ফেনী-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিনের হাতে দাঁড়িপাল্লা এবং ফেনী-২ আসনে প্রার্থী জহিরুল ইসলামের হাতে ঈগল প্রতীক তুলে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই প্রতীকগুলো কোনো একক দলের নয়; এগুলো ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতীক। ১১টি দল একসঙ্গে মিলেই এই নির্বাচন লড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন ও গণতন্ত্র প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে—যার অর্থ আজাদী, আর ‘না’ মানে গোলামী। দ্বিতীয় ভোট হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে। তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা বলেন, যেখানে একজন সাধারণ রিকশাচালকের সন্তানও মেধা ও যোগ্যতায় একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে এবং বংশানুক্রমিক ক্ষমতার রাজনীতি বদলে যাবে।