নারীদের অসম্মানকারী কেউ দেশদরদী হতে পারে না: তারেক রহমান

0
62
নারীদের অসম্মানকারী কেউ দেশদরদী হতে পারে না: তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী সমাজকে যারা অসম্মান করে এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালি দেয়, তারা আর যাই হোক দেশদরদী বা জনদরদী হতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে মা-বোনদের ঘরের মধ্যে বন্দী করতে চায় এবং তাদের কর্মসংস্থান নিয়ে কলঙ্কজনক মন্তব্য করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যারা নিজেদের দলের নারী কর্মীদেরও সম্মান দিতে পারে না, তাদের কাছে দেশের মানুষ নিরাপদ নয়।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনার খালিশপুরে প্রভাতী স্কুল মাঠে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একজন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওই নেতা প্রকাশ্যেই বলেছেন তারা নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন না এবং কর্মজীবী নারীদের নিয়ে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা সমাজের জন্য “কলঙ্কস্বরূপ”। তিনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্পসহ নানা খাতে নারীরা আয়-উপার্জনের মাধ্যমে পরিবার ও অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন। দ্রব্যমূল্যের চাপে বহু পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন—এ অবস্থায় নারীদের নিয়ে এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, যারা ইসলামের কথা বলেন, তাদের মনে রাখা উচিত নবী (সা.)-এর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭১ সালে নারীদের প্রতি যে ধরনের সহিংসতা ও অসম্মান করা হয়েছিল, তার পূর্বসূরিদের ভূমিকার কথাও মানুষ ভুলে যায়নি—এমন দাবি করে তিনি যোগ করেন, এ ধরনের মানসিকতার কাছে নারী সমাজ কখনো নিরাপদ হতে পারে না।

প্রতিপক্ষ দলের একজন নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইডি হ্যাক হওয়ার ব্যাখ্যা দেওয়া নিয়েও সমালোচনা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সমালোচনার মুখে এখন বলা হচ্ছে আইডি হ্যাক হয়েছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি সম্ভব নয়—এমন বক্তব্য তুলে ধরে তিনি এটিকে “মিথ্যাচার” হিসেবে উল্লেখ করেন।

নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণী ও মায়ের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে নারীরা আরও শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারেন। তিনি জানান, অতীতে খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, বিএনপি সেই ধারাই অব্যাহত রেখে দেশ পুনর্গঠন করতে চায়।

তিনি বিগত ১৫–১৬ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই সময়ে মানুষ ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল এবং অনেককে গুম-খুনের শিকার হতে হয়েছে—এমন অভিযোগও করেন তিনি। তারেক রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দল-মত নির্বিশেষে মানুষ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে।

খুলনাকে “মৃত শিল্প নগরী” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে শিল্পাঞ্চলকে পুনরায় সচল করা হবে। তরুণদের জন্য আইটি পার্ক, নারী-পুরুষ উভয়ের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরার কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, যারা আপনাদের অপমান করে তাদের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। আগামী ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পাবে—এমন প্রত্যাশাও জানান তিনি।