মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি এবং এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তারা। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে পুনরায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং নিজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়েও শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষে শ্রদ্ধা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।
তিন বাহিনী প্রধানের পর সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা তথা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াত জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ। এরপর বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তাদের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার শ্রদ্ধা জানান।
এদিকে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনার এলাকায় নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মিছিলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর নির্দেশে পুলিশ গুলি চালায়। এতে প্রাণ হারান সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা আরও অনেকে। পরবর্তীতে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ভাষা আন্দোলনের এই চেতনার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।