কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ এবং নতুন গভর্নর নিয়োগের গুঞ্জনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বুধবার দুপুর ২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলন শেষে কার্যালয় ত্যাগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অল্পসংখ্যক কর্মকর্তা শৃঙ্খলা ও সাম্প্রতিক আর্থিক খাতের সাফল্যকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের বিক্ষোভকে তিনি ‘স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, কয়েকটি ব্যাংকের একীভূতকরণ, রাষ্ট্রীয় নীতি ও রাজনৈতিক অর্থনীতির বিষয় কোনো কর্মচারী সংগঠনের আলোচ্য হতে পারে না।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল-এর ব্যানারে কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি না মানা হলে তারা কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করবেন।
মনসুর বলেন, গত দুই বছর ধরে ৭৬ লাখ আমানতকারী যারা অর্থ তুলতে পারেননি, তাদের স্বার্থ রক্ষাই ব্যাংক অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে ৩২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে—সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স ফান্ড থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা। তিনি জানান, এক্সিম ব্যাংককে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ইকুইটি সহায়তা দেওয়া হলেও নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদ তা যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আরও ১ হাজার কোটি ও ৩ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর তাদের ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মনসুর বলেন, পদত্যাগ করতে ‘দুই সেকেন্ডই যথেষ্ট’। তবে পরে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপে তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি পদত্যাগ করেননি। কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে নতুন গভর্নর নিয়োগের খবর দেখে তিনি অফিস ত্যাগ করেছেন। কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে, যা পরে সম্পন্ন করবেন বলেও জানান।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে পৌঁছান। নতুন গভর্নর নিয়োগের খবরের প্রেক্ষাপটে দিনের নির্ধারিত সব সভা বাতিল করে কার্যালয় ছাড়েন তিনি। বিদায়ী বার্তায় তিনি বলেন, নতুন সরকার ও তার উত্তরসূরির সাফল্য কামনা করেন।