গভর্নরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি

0
10
গভর্নরের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, নিয়মনীতি ও নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে দাবি করে কাউন্সিল উচ্চপর্যায়ের শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। এ দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান (গভর্নর) বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং এর অনুলিপি পর্ষদের সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ স্বাক্ষরিত চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, গভর্নর সচিবালয় থেকে বিএফআইইউকে নিয়মিতভাবে ফ্রিজকৃত হিসাবের তথ্য দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা স্পর্শকাতর ও গোপনীয়। এ ধরনের তথ্য গভর্নর অফিসে বা একান্ত সচিবের কাছে সংরক্ষণের বিধান নেই বলেও দাবি করা হয়। আরও অভিযোগ করা হয়, এসব গোপনীয় তথ্য একটি সিন্ডিকেটের কাছে পাচার হয়ে ‘তদ্বির বাণিজ্য’র মাধ্যমে বন্ধ অ্যাকাউন্ট সচল করার বিনিময়ে অর্থ লেনদেন হচ্ছে—যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের পরিপন্থী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গভর্নরের দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গাড়ি ক্রয় ও ব্যবহার নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যমান সচল গাড়ি থাকা সত্ত্বেও সরকারি ক্রয়সীমা ও ব্যয় সংকোচন নীতি উপেক্ষা করে দুই কোটির বেশি মূল্যের বিলাসবহুল এমপিভি (Toyota Alphard) কেনা হয়েছে এবং এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্ট্যান্ডার্ড যানবাহনের তালিকাভুক্ত নয়। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী দুটি গাড়ি ব্যবহারের অধিকার থাকলেও পরিবারের সদস্যরা চারটি গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং নির্ধারিত জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাজেটের বেশি ব্যয় হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

গভর্নরের একান্ত সচিবের বিরুদ্ধে অফিসের গাড়ি ব্যবহার করেও মাসে ৫০ হাজার টাকা ‘গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা’ নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানে তাড়াহুড়ো ও ‘স্বার্থের সংঘাত’, মেডিকেল সেন্টারের ওষুধ সংক্রান্ত বিল, এবং সিএসআর ফান্ড থেকে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। কাউন্সিলের দাবি, এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।

এদিকে গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের তিন কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগ তাদের বদলির আদেশ জারি করেছে। বদলীকৃতরা হলেন—পরিচালক নওশাদ মোস্তফা (বরিশাল অফিস), এ কে এম মাসুম বিল্লাহ (রংপুর অফিস) এবং গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ (বগুড়া অফিস)। এর আগে তাদের ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।