ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করায় ন্যাটোর অন্যতম মিত্র স্পেনের ওপর চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই হামলাকে ‘অন্যায্য ও বিপজ্জনক’ আখ্যা দেওয়ার পর দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপড়েন এখন তুঙ্গে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে বৈঠককালে ট্রাম্প স্পেনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “স্পেন খুবই খারাপ আচরণ করছে। আমি অর্থমন্ত্রী স্কট ব্রেসেন্টকে নির্দেশ দিয়েছি স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ও ব্যবসা বন্ধ করতে। আমরা তাদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।” ট্রাম্প স্পেনকে একটি ‘ভয়ানক’ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, তারা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করছে না। উল্লেখ্য, ন্যাটোর বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ হলেও ট্রাম্প ৫ শতাংশের ওপর জোর দিচ্ছেন।
এই উত্তজনা শুরু হয় যখন স্পেন সরকার ঘোষণা দেয় যে, তারা তাদের মাটিতে থাকা রোটা ও মোরন সামরিক ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো একতরফা অভিযানে ব্যবহার করতে দেবে না। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে ম্যানুয়েল আলবারেস স্পষ্ট করেন যে, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী এই ঘাঁটিগুলো কেবল আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের চার্টার মেনেই ব্যবহার করা সম্ভব। স্পেনের এই অনড় অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে সেখান থেকে বেশ কিছু জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমান সরিয়ে নিতে হয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জও ট্রাম্পের সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, স্পেনের উচিত মিত্রদের নিরাপত্তা নীতি মেনে চলা। তবে স্পেনের সরকার জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে কোনো যুদ্ধে অংশ নেবে না। ট্রাম্পের এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকির ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।