বেনাপোল বন্দর সংলগ্ন এলাকা থেকে ২.৮ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার

0
28
বেনাপোল বন্দর সংলগ্ন এলাকা থেকে ২.৮ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার

যশোরের বেনাপোল সীমান্তের বড় আঁচড়া গ্রাম থেকে ২ কেজি ৮০০ গ্রাম বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে বেনাপোল কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালের পেছনের একটি এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এই বিস্ফোরকের চালান জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

যশোর ব্যাটালিয়ন ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, সন্ত্রাসী কার্যকলাপের উদ্দেশ্যে কার্গো টার্মিনালের পেছনে বিস্ফোরক মজুত করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সেখানে অভিযান চালায়। পরে বড় আঁচড়া গ্রামের সোবহানের বাড়ির পাশের একটি ফুলবাগান থেকে এই বিস্ফোরকগুলো উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকের মধ্যে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম ভারতীয় মসলা বিস্ফোরক পাউডার এবং ১ কেজি ৪০০ গ্রাম পটাশ বিস্ফোরক পাউডার রয়েছে। রাতেই জব্দকৃত বিস্ফোরক বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, এসব বিস্ফোরক কী উদ্দেশ্যে এবং কারা মজুত করেছিল, তা নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, বন্দর এলাকায় এমন বিস্ফোরক মজুতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেনাপোল বন্দর ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর শাহিনুর রহমান জানান, কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দর স্থাপনার ১০০ গজের মধ্যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নির্মাণ ও বিস্ফোরক সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অবৈধভাবে মজুত করা এসব বিস্ফোরক থেকে তাপ বিকিরণ হয়ে বিস্ফোরণ ঘটলে আমদানি পণ্য, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বন্দরের সীমানা ঘেঁষে বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা থাকায় অপরাধীরা সহজেই সেখানে আস্তানা গাড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এসব স্থাপনা অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময় লেগে যাচ্ছে, যার ফায়দা লুটছে দুর্বৃত্তরা।

তবে বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, বন্দর সম্প্রসারণের জন্য আশপাশের স্থাপনা অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। বন্দর এলাকায় যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম ও অবৈধ বিস্ফোরক মজুত রোধে কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের সহযোগিতা আরও চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here