একদিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ৫ যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
দেশে শিশুদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম-রুবেলার সংক্রমণ। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামীকাল রোববার থেকে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।
প্রাথমিকভাবে দেশের ১৮টি জেলার সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকা ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার তথ্যানুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ১২ লাখ ৩ হাজার ২৬৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।
টিকাদান কর্মসূচির কারিগরি দিক নিয়ে ইতিমধ্যে নাইট্যাগ (NITAG) কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এই দুই সভার পর্যালোচনার ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলার তালিকায় আরও দু-একটি নাম যুক্ত হতে পারে।
বর্তমানে নির্ধারিত ৩০টি উপজেলার মধ্যে রয়েছে বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, ঢাকার নবাবগঞ্জ ও গাজীপুর সদর, যশোর সদর, ঝালকাঠির নলছিটি, মাদারীপুর সদর এবং মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর। এছাড়া ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, নাটোর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর ও ভোলাহাট, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, রাজশাহীর গোদাগাড়ী এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলাকেও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে হামের সংক্রমণের হার ১৬ দশমিক ৮।
সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা সদর উপজেলা। চলতি বছর সেখানে ২৬ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং সংক্রমণের হার ২৯৫। এই উপজেলায় টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রায় থাকা শিশুর সংখ্যা ৩৬ হাজার ৮৮ জন। সংক্রমণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাবনা সদর উপজেলায় ৩২ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং সেখানে সংক্রমণের হার ১৮০। তৃতীয় স্থানে থাকা চাঁদপুর সদর উপজেলায় ২৪ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং সংক্রমণের হার ১৪৪।
তবে এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে তীব্র জনবল সংকটকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সিভিল সার্জনরা। টিকাদানের মূল দায়িত্ব পালনকারী স্বাস্থ্য সহকারীদের ৩০ শতাংশেরও বেশি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে, যা এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে, দেশে হামের সংক্রমণের সার্বিক চিত্র ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক ৯৪৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪২ জন শিশুর হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক ৫ হাজার ৭৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৭১ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হামের কারণেই হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ; কারণ কেবল গত এক সপ্তাহেই ৫০ জনের বেশি শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে।