ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাতভর হামলা: নিহত অন্তত ১৩

0
45
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাতভর হামলা: নিহত অন্তত ১৩

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল ইস্ফাহানেও দীর্ঘ সময় ধরে এই বিস্ফোরণ ও হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে কারাজ শহরের বি-১ সেতুতে চালানো এই যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

আলজাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, এই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের বিভিন্ন শিল্প ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তেহরান ও ইস্ফাহান ছাড়াও উরমিয়া, খোররামাবাদ, কারাজ এবং কোমের মতো শহরগুলোতে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই আকস্মিক হামলায় শহরাঞ্চলের পাশাপাশি শিল্প কারখানাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাতভর চলা এই হামলায় তেহরান ও ইস্ফাহানের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে বহু মানুষ রাতভর নিরাপদ স্থানে ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি পরিষেবাগুলো প্রায় স্বাভাবিক থাকলেও যানবাহন চলাচল এবং শিল্প কারখানার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা হামলা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক অঙ্গনেও অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান এই সংঘাত বন্ধে পাকিস্তান মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তারা ইসলামাবাদে কোনো প্রতিনিধি পাঠাতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে আঞ্চলিক মধ্যস্থতার এই প্রচেষ্টা আপাতত থমকে গেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, চলমান এই সংকট নিরসনে এখন কাতার ও তুরস্ক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে।

এদিকে, ইরানের মাটিতে চালানো এই যৌথ হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাতের এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here