ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি

0
23
ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই জোটে মার্কিন অর্থায়নের বিষয়টি তিনি খুব গুরুত্বের সঙ্গে ‘পুনঃমূল্যায়ন’ করবেন। তার দাবি, ন্যাটোর সামনে খুব খারাপ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম তুর্কি টুডে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের সময় এই জোট যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমর্থন দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারো তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একইঙ্গে তিনি এই জোটে আমেরিকার সদস্যপদ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

স্থানীয় সময় রবিবার (১২ এপ্রিল) মেরিল্যান্ডের যৌথ সামরিক ঘাঁটি অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যখন প্রয়োজন ছিল তখন ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ন্যাটো এখন এগিয়ে আসতে চায় কারণ এখন আর কোনো বাস্তব হুমকি অবশিষ্ট নেই।

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধে মিত্র দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমর্থন দিতে অস্বীকার করায় তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।

রবিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধের সময় ন্যাটোকে পাশে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “তারা আমাদের জন্য সেখানে ছিল না। এখন তারা এগিয়ে আসতে চাইছে, কিন্তু এখন আর কোনো বাস্তব হুমকি নেই।”

তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমর্থন না জানানোয় তিনি এই জোটের ওপর গভীরভাবে হতাশ।

ট্রাম্প এই জোটে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ থাকার সামগ্রিক গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া থেকে সুরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর পেছনে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, যা তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কিছুটা ‘হাস্যকর’ বলে মনে করেন।

ট্রাম্পের ভাষায়, “আপনারা জানেন, রাশিয়ার হাত থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য আমরা ন্যাটোর পেছনে ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছি। আমি দীর্ঘদিন ধরেই মনে করি এটা কিছুটা হাস্যকর। আমরা এটি করতে গিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করছি। আমি মনে করি এখন খুব গুরুত্বের সঙ্গে ন্যাটোতে মার্কিন অর্থায়ন পুনঃমূল্যায়ন করে দেখা হবে।”

এর আগে গত মাসে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে মিত্র দেশগুলো সমর্থন না দেওয়ায় তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করার কথা ‘দৃঢ়ভাবে বিবেচনা’ করছেন। তিনি এই জোটকে একটি ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

ভবিষ্যতে ন্যাটোর সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি বিবেচনার ঊর্ধ্বে চলে গেছে। তিনি বলেন, “ওহ হ্যাঁ, আমি বলব এটি পুনর্বিবেচনার ঊর্ধ্বে। আমি কখনোই ন্যাটোর দ্বারা প্রভাবিত হইনি। আমি সবসময়ই জানতাম তারা একটি কাগুজে বাঘ এবং পুতিনও সেটি জানেন।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলোকে ৭৭ বছরের পুরোনো ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতি ট্রাম্পের সবচেয়ে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে ন্যাটোর প্রতি ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান জোটটির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here