দাপুটে জয়ে সেমিফাইনালে পিএসজি, লিভারপুলের বিদায়

0
20
দাপুটে জয়ে সেমিফাইনালে পিএসজি, লিভারপুলের বিদায়

ইউরোপীয় মঞ্চে প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল লিভারপুল। কিন্তু সেই স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত আধিপত্যে সেমিফাইনালের টিকিট কেটে নিয়েছে প্যারিস সেন্ত জার্মেই। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আনফিল্ডে দ্বিতীয় লেগে শেষ দিকে জোড়া গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন উসমান দেম্বেলে। আর দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় লিভারপুল।

প্রথম লেগে ফ্রান্সে ২-০ ব্যবধানে হারের পর ঘরের মাঠে আরেকটি ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের আশায় ছিল লিভারপুল। ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে পেনাল্টি পেয়ে সেই সুযোগও এসেছিল তাদের সামনে। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে তা বাতিল হয়ে যায়। সেখানেই মূলত ভেঙে পড়ে তাদের সম্ভাবনা।

প্রথম লেগে একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করা দেম্বেলে এবার আর ভুল করেননি। ৭২ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে নিচু শটে গোলরক্ষক জর্জি মামারদাশভিলিকে পরাস্ত করে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন তিনি। এরপর অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত দলগত আক্রমণ থেকে আরেকটি নিখুঁত শটে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন। নিশ্চিত করেন পিএসজির সেমিফাইনাল।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি এখন সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ অথবা বায়ার্ন মিউনিখের। যেখানে প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে জার্মান ক্লাবটি। লুইস এনরিকের দল এবার লক্ষ্য স্থির করেছে ইতিহাস গড়ার। চ্যাম্পিয়নস লিগ যুগে টানা শিরোপা জেতা দ্বিতীয় দল হওয়া, যেখানে আগে একমাত্র কীর্তিটি গড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ (২০১৬-১৮)।

ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে নকআউট পর্বে টানা ৫টি জয়ে এখন পিএসজি। এর মধ্যে গত মৌসুমেও শেষ ষোলোতে লিভারপুলকে হারানোর স্মৃতি রয়েছে তাদের।

অন্যদিকে আর্নে স্লটের দলকে এখন লিগের শীর্ষ ৫-এ জায়গা নিশ্চিত করেই আগামী মৌসুমে আবার ইউরোপের মঞ্চে ফেরার পথ খুঁজতে হবে। অথচ এই দলই ইতিহাস গড়েছে অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের, ২০০৫ সালের ফাইনালে ৩-০ পিছিয়ে থেকেও জিতেছিল। আবার ২০১৯ সালে বার্সেলোনার বিপক্ষে ৩-০ ঘাটতি পুষিয়ে ৪-০ জয় তুলে নিয়েছিল।

আনফিল্ডের বিখ্যাত উত্তাল পরিবেশও এদিন পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি লিভারপুল। স্টেডিয়ামের বাইরে লাল ফ্লেয়ারে পিএসজি দলকে স্বাগত জানানো হলেও মাঠের ভেতরে অতিথি সমর্থকেরাই ছিলেন বেশি সোচ্চার। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টির সুযোগ পেয়ে কিছুটা আশার আলো জাগলেও তা দ্রুত নিভে যায়।

শেষ পর্যন্ত দেম্বেলের জোড়া আঘাতেই সব হিসাব মিটে যায়। আর ইউরোপে নিজেদের আধিপত্যের বার্তা দিয়েই শেষ চারে জায়গা করে নেয় প্যারিসের ক্লাবটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here