সারাদেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচন-২০২৬ স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল বার কাউন্সিল ভবনে জরুরি সভায় বার কাউন্সিল সদস্যরা নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন। সারা দেশে তীব্র জ্বালানিসংকটের কারণে নির্বাচনী কাজ ও প্রচার বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আগামী ১৯ মে বার কাউন্সিল সদস্য নির্বাচনে সাধারণ আসনের ৭টি ও আঞ্চলিক আসনের ৭টি পদে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিসহ দেশের বিভিন্ন বার সমিতির অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন স্থগিত করা হলো।
এর আগে গত ২ এপ্রিল বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল-এর সদস্য নির্বাচন-২০২৬ এর ভোটগ্রহনের জন্য ১৯ মে দিন নির্ধারণ করা হয়েছিলো।
সেদিন সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)। এছাড়া উক্ত সভায় বার কাউন্সিলের বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তাদের মধ্যে ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান এ.এস.এম. বখতিয়ার আনোয়ার, লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট আবদুল আল মামুন, রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম, রোল ও পাবলিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. মাহফুজ আহসানসহ অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।
প্রসঙ্গত, তিন বছর পর বার কাউন্সিল নির্বাচন হয়ে থাকে। নির্বাচনে ১৪টি পদ বা আসনে ভোট হয়। এর মধ্যে সাধারণ আসনে সাতজন ও সাতটি অঞ্চলভিত্তিক আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে একজন করে আরও সাতজন নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৪ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান। অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
তবে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর এডহক কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।