গুম অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

0
19
গুম অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বিরোধী মত ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে হওয়া অবিচার তদন্তে গঠিত গুম কমিশনের সুপারিশ যা গুম অধ্যাদেশ নামে পরিচিত। সেই গুম অধ্যাদেশ সংসদে বাতিলে প্রতিবাদ এবং মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ও আইনুল হক কাসেমীর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বৈষম্যহীন কারামুক্তি আন্দোলন নামের একটি সংগঠন।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন।

সমাবেশে কর্ণেল ফেরদৌস আলী বলেন, পুরা বাংলাদেশে শুধু ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র নয়। সাধারণ জনতাও অংশগ্রহণ করেছে। বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি আশা ছিল নতুন বন্দোবস্তের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এখানে কোনো জুলুম নির্যাতন থাকবে না, ইনসাফের বাংলাদেশ হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম নির্বাচন হওয়ার পরের দিনই আবার সেই ভারতের কোলে গিয়ে বসল। দেশের স্বার্থে সবাই নির্বাচন মেনে নিয়েছে ভালো কথা, এখন দেশ ভালোভাবে চালান।

তিনি আরও বলেন, ১৩৩টা অধ্যাদেশ যা অন্তর্বতী সরকার গিয়েছিল ওগুলো কেন সরাসরি আপনি আইনে পরিণত করলেন না, কেন ২০টা অধ্যাদেশ এখনো বাতিল পর্যায়ে রয়ে গেছে। কেন গুম কমিশন এবং গুম অধ্যাদেশ এবং আরও অনেকগুলো অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। আমরা জানি যে অধ্যাদেশগুলা জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত রাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত সেগুলো তারা বাতিল করে স্থগিত রেখেছে। যেগুলো তাদের স্বার্থের সঙ্গে যায় সেগুলোই তারা গ্রহণ করেছে।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে আলেম সমাজকে ব্যবহার করছে এবং বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হওয়া আলেমদের মুক্তির বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।

ধর্মীয় বক্তব্যের কারণে মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ও আইনুল হক কাসেমী দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী। হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে তাদের মুক্তির দাবি জানানো হলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

বক্তারা আরও দাবি করেন, অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কারণে গ্রেফতার হওয়া জামায়াতের নারী কর্মীর ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বর্তমানে আলেমদের বিষয়ে একই ধরনের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এতে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

সমাবেশ থেকে ইসলামপন্থী রাজনীতির স্বাধীন চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে এবং প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া, পূর্ববর্তী সময়ের বিভিন্ন ঘটনা টেনে এনে বক্তারা ‘গুম-খুন’ ও দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত আলেম ও ধর্মীয় নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here