চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ১ নম্বর রেলক্রসিং গেট এলাকায় স্থানীয়দের হামলায় সময় টিভির ক্যাম্পাস প্রতিবেদক জাহিন সরকার আবিরসহ তিন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় সাংবাদিক আবিরের বাঁ হাত ভেঙে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে রেলক্রসিং সংলগ্ন ইসলামিয়া হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত অন্য দুই শিক্ষার্থী হলেন যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আলিমুল শামীম এবং তৃতীয় বর্ষের আশিকুর ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, রাতে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৬-৭ জন শিক্ষার্থী ইসলামিয়া হোটেলে খাওয়া শেষ করে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন। রাত ১০টার দিকে ৩ নম্বর রুটের একটি বাস এলে শিক্ষার্থীরা আনন্দ ও হৈ-হুল্লোড় করতে করতে বাসের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় ইমন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ শুরু করেন। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ইমন এর আগেও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।
বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সময় টিভির ক্যাম্পাস প্রতিবেদক জাহিন সরকার আবির পুরো বিষয়টি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা তার ফোন কেড়ে নেয়। আবির নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও হামলাকারীরা আরও উত্তেজিত হয়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে, এতে তার হাত ভেঙে যায়। প্রতিবাদ করতে গেলে আলিমুল ও আশিককেও মারধর করা হয়।
আহতদের দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ আবুল কাশেম জানান, আবিরের বাঁ হাতের উপরের অংশে গুরুতর আঘাত থাকায় তাকে এক্স-রে ও উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত শিক্ষার্থী আশিকুরকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফুরকান বলেন, “প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে।”
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের পাশাপাশি র্যাবের দুটি টিম অভিযানে নেমেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। এদিকে, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।