ইরানে সামরিক ক্ষমতা প্রয়োগে সিনেটে ভোটাভুটি, ফের জিতলেন ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণার পরও শেষ পর্যন্ত তা পাড়ি দিতে পারেনি বাংলাদেশের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। শুক্রবার রাতে যাত্রা শুরু করলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বাহিনীর নির্দেশে জাহাজটিকে আবার পারস্য উপসাগরে ফিরে যেতে হয়। এতে করে তৃতীয়বারের মতো ব্যর্থ হলো জাহাজটির হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা।
জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর তারা আশাবাদী হয়ে শুক্রবার রাতে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে রওনা দেন। কিন্তু যাত্রা শুরুর কিছু সময় পরই ইরানের পক্ষ থেকে বেতারবার্তায় জানানো হয়, জাহাজটি প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে না। এরপর নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটি আগের অবস্থানে, অর্থাৎ পারস্য উপসাগরে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে এবং রাত তিনটার মধ্যে তা অতিক্রম করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায় এবং জাহাজটিকে ফিরে আসতে বাধ্য হতে হয়।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা করার পর পারস্য উপসাগরে অপেক্ষমাণ শতাধিক জাহাজ নোঙর তুলে হরমুজের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং সব জাহাজকে আবার ফিরে যেতে দেখা যায়। এই তালিকায় ‘বাংলার জয়যাত্রা’ও ছিল।
উল্লেখ্য, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে। জাহাজটি সেখানে এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। পরে ১১ মার্চ বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জাহাজটিকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু প্রথমবার অনুমতি না পাওয়ায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে জাহাজটিতে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয়। এই সার দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির পর দ্বিতীয়বারও অনুমতি না পেয়ে জাহাজটি হরমুজের কাছে পারস্য উপসাগরে অপেক্ষা করতে থাকে।
তৃতীয়বারের মতো শুক্রবার রাতে আবারও যাত্রা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত একই পরিণতি ঘটে। ইরানের নির্দেশে জাহাজটি ফিরে যেতে বাধ্য হওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এতে করে পণ্য পরিবহন ও সময়সূচি নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির বর্তমান অস্থির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য কার্যক্রমেও পড়তে পারে।
বর্তমানে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ পারস্য উপসাগরে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত জাহাজটি সেখানেই অবস্থান করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।