ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল ৩ সপ্তাহ

0
22
ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল ৩ সপ্তাহ

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ইসরায়েল ও লেবানন তাদের যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, বৈঠকে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নানা মাওয়াদ।

বুধবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার একদিন পর দ্বিতীয় দফা আলোচনার আয়োজন হয়, যাদের মধ্যে একজন সাংবাদিকও ছিলেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, বৈঠকটি খুব ভালো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র লেবাননকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতে সহায়তা করবে।

আলোচনায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উপস্থিত ছিল না।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে স্বাগত জানাতে তিনি অপেক্ষায় আছেন। ট্রাম্প বলেন, তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তির ‘বড় সম্ভাবনা’ রয়েছে এই বছরেই।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এবং লেবাননে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসাও উপস্থিত ছিলেন।

গত সপ্তাহে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতের আলোচনার পর এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, যার মেয়াদ রোববার শেষ হওয়ার কথা ছিল। চুক্তির ফলে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রয়েছে, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী একটি স্বঘোষিত বাফার জোন দখল করেছে।

লেবাননের রাষ্ট্রদূত নানা মাওয়াদ বৈঠকে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনার সাহায্য ও সমর্থনে আমরা লেবাননকে আবার মহান করতে পারি।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত লেইটার বলেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য হতে হবে হিজবুল্লাহকে নির্মূল করা। তার মতে, হিজবুল্লাহ ও ইরান-সমর্থিত যোদ্ধাদের হালকাভাবে মোকাবিলা করলে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

এদিকে এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলাকালে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের বাহিনীর দিকে এগিয়ে আসা দুই সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, একই এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনজন নিহত এবং আরেকটি আর্টিলারি হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শিশু।

বুধবার ছিল যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর লেবাননের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন। নিহতদের মধ্যে সাংবাদিক আমাল খলিলও রয়েছেন বলে জানিয়েছে তার প্রতিষ্ঠান আল-আখবার।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

লেবাননের পার্লামেন্ট সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করেন।

এদিকে, মার্চের ২ তারিখে হিজবুল্লাহর হামলার পর থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের কর্তৃপক্ষ।

ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার অংশ দখল করে রেখেছে, যা তারা উত্তর ইসরায়েলকে সুরক্ষার জন্য বাফার জোন হিসেবে ব্যবহার করছে বলে দাবি করছে।

সূত্র: রয়টার্স

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here