নওগাঁয় চার জনকে গলাকেটে হত্যা মামলার দুই আসামির দুই দিনের রিমান্ড

0
19
নওগাঁয় চার জনকে গলাকেটে হত্যা মামলার দুই আসামির দুই দিনের রিমান্ড

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোনাবিল হক এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার প্রধান অভিযুক্ত সবুজ রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ নিহত হাবিবুরের ভগ্নিপতি শহিদুল, ভাগনে শাহিন এবং সবুজ রানাকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সবুজ রানা আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য এবং অন্য সহযোগীদের তথ্য উদ্ঘাটনে গ্রেপ্তার শহিদুল ও শাহিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই চাঁদ আলী। শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সবুজ রানা জানান, নানা নমির উদ্দিনের কাছ থেকে তার মামা হাবিবুর রহমান বেশি জমি লিখে নেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। এই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই মামাকে ‘নির্বংশ’ করার পরিকল্পনা করেন সবুজ, শহিদুল ও শাহিন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে সবুজের নেতৃত্বে ছয়জন ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রথমেই সবুজের নানা নমির উদ্দিনের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেওয়া হয় যাতে তিনি বের হতে না পারেন।

এরপর তারা একে একে শোবার ঘরে ঢুকে হাবিবুর রহমানকে জাপটে ধরে গলাকেটে হত্যা করে। শব্দ পেয়ে মামি পপি সুলতানা ঘর থেকে বের হলে তাকে হাসুয়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। সবশেষে ঘুমন্ত শিশু পারভেজ ও সাদিয়াকেও অত্যন্ত নির্দয়ভাবে গলাকেটে হত্যা করে তারা।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী পপি এবং তাদের দুই শিশু সন্তানকে নিজ বাড়িতেই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি সহযোগীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here