গাইবান্ধায় ৫ জনসহ বজ্রপাতে ৭ জেলায় মৃত্যু ১৪

0
19
গাইবান্ধায় ৫ জনসহ বজ্রপাতে ৭ জেলায় মৃত্যু ১৪

দেশের সাত জেলায় রোববার (২৬ এপ্রিল) বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়, বগুড়া ও নাটোরে একজন করে মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে আটজন। বজ্রপাতে বেশ কয়েকটি গবাদিপশুরও মৃত্যু হয়েছে।

এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহের পর রোববার ঢাকাসহ রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সঙ্গে ছিল বজ্রপাত।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে বজ্রপাতে এক শিশুসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন এবং একটি গরু মারা গেছে। বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-ওই এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫) এবং নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০)। এ ঘটনায় আহত শামীম (১৮) একই গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় ওই দুই তরুণ ও শিশু বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান। একই সময়ে পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। আহত শামীমকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একই গ্রামের তিনজনের এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিরা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে ছুটে যান।

ঠাকুরগাঁও: পীরগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে লাবণী আক্তার (৩৫) ও ইলিয়াস আলী (৩৭) নিহত হয়েছেন। গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে ও ফসল দেখতে গিয়ে প্রাণ গেছে তাদের।

সিরাজগঞ্জ: রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় হোসেন আলী সেখ (২৫) ও আবদুল হামিদ (৫০) মারা গেছেন। মাঠে ধান কাটা ও কাজ করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান তারা।

জামালপুর: সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় মর্জিনা বেগম (২২) ও হাসমত আলী (৪৫) নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও চারজন। বজ্রপাতে পাঁচটি গরুরও মৃত্যু হয়েছে।

পঞ্চগড়: আটোয়ারী উপজেলায় চা-শ্রমিক সোহরাওয়ার্দী (২২) বজ্রপাতে মারা যান। আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক। ফিরে গেছেন মাত্র আট দিন আগে বিয়ে করেছিলেন।

নাটোর: সিংড়া উপজেলায় ধানকাটা শ্রমিক সম্রাট হোসেন (২৬) বজ্রপাতে মারা যান। ধানের বোঝা নামিয়ে পাশের ঘরে আশ্রয় নেওয়ার পরও তাঁকে বাঁচাতে পারেনি বিদ্যুৎচমক।

বগুড়া: গাবতলী উপজেলায় কৃষক সুমন (৩৫) বাড়ির পাশের মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here