চলমান কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে কুমিল্লায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত দুই দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে জেলার ১৭টি উপজেলায় কৃষি ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে বুধবার (২৯ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। মঙ্গলবার ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হলেও বুধবার তা কমে ৩৬.২ মিলিমিটারে দাঁড়িয়েছে। তবে বৃষ্টি ও হালকা ঝড় অব্যাহত রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় ১ হাজার ৭৩৩ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫০ হেক্টর ভুট্টা, ৩৬৪ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি এবং ৯১ হেক্টর তিল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও বোরো ধানে এখনো বড় ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে শতাধিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে, অর্ধশতাধিক ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে এবং প্রায় দেড় হাজার স্থানে লাইনের ওপর গাছ পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ফলে অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ নেই।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায়, পুনরায় ঝড় শুরু হওয়ায় মেরামত কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং জনবল সংকটের কারণে স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে ঝড়ের প্রবণতা রয়েছে এবং নদীবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি আছে। আগামী ২৪ ঘণ্টাও বৃষ্টি ও বজ্রঝড় অব্যাহত থাকতে পারে।
টানা বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক স্থানে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মোমবাতি বা জরুরি আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খাল-নালা পরিষ্কারের কাজ চলছে।