দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনে ডিসিদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

0
27
দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনে ডিসিদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনের মানসিকতা নিয়ে প্রস্তুত থাকার জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের সবসময় প্রস্তুত রাখতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও স্থায়ী নয়। বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের শিকার হয়েছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে সমাধানের পথ খোঁজার লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি বিষয় পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন, সন্ধ্যার ৭টার পর যাতে মার্কেট ও শপিংমলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়া হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এর আগে, সকাল সোয়া ১০টার পর সচিবালয়ে নিজ দফতর থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় রাস্তার দুই ধারে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওতাধীন সংস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রথম দিনের অধিবেশন শেষে জেলা প্রশাসকরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন (৪ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা এবং জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হবে। তৃতীয় দিন (৫ মে) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে।

সম্মেলনের শেষ দিন ৬ মে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে। ওইদিন রাতে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভার মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নৈশভোজে অংশ নেবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here