পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু, এগিয়ে বিজেপি

0
18
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু, এগিয়ে বিজেপি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৮ টায়) কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে ভোট গণনা।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভায় মোট আসন ২৯৪টি। সেসবের মধ্যে ১১২টি আসনের ফলাফল ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত সেই ফলাফলে দেখা গেছে, এই ১১২টি আসনের মধ্যে ৫৬টিতে বিজেপি, ৫৩টিতে তৃণমূল কংগ্রেস, ২টিতে কংগ্রেস এবং একটিতে ‘অন্যান্য’ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। রাজ্যের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল সিপিএম এখনও কোনো আসনে জয় পায়নি।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। কলকাতাসহ ২৩ জেলায় স্থাপিত ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গণনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত নির্বাচনে এই কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১০৮টি। সেই হিসেবে এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে ৩১টি। কলকাতার সবচেয়ে বড় গণনাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে। এখানে কলকাতা মহানগরীর ১১টি আসনের মধ্যে ৭টি আসনের ফল গণনা করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে গণনা করা হচ্ছে পোস্টাল ব্যালটের ভোট। তারপর গণনা করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নেওয়া ভোট।

আজকের ফলাফল থেকেই নির্ধারিত হবে যে আগামী ৫ বছর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতির মূল নিয়ন্ত্রণ থাকবে কাদের কাছে। দুপুর ১২টার মধ্যে জয়–পরাজয়ের গতিপ্রকৃতি জানা যাবে। তবে গণনা পুরোপুরি শেষ হতে কোনো কোনো কেন্দ্রে রাতও হয়ে যেতে পারে।

ভোট গণনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে নির্বাচন কমিশন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে গণনাকেন্দ্র। গণনাকেন্দ্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাউন্টিং এজেন্টদের (গণনাকারী প্রতিনিধি) ঢোকার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে এবং অনুমোদনপ্রাপ্ত এই এজেন্টদের ‘কিউআর কোড’–সংবলিত পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে।

কোনো ‘কাউন্টিং এজেন্ট’ গণনাকেন্দ্রে মুঠোফোন নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। কেবল নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মুঠোফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ভোট গণনায় বিশেষ নজর থাকবে ভবানীপুরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ফলাফলের ওপর। কারণ, আজকের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই এ দু’জনের মধ্যে একজন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবেন।

এ ছাড়া তৃণমূলের তারকা প্রার্থীদের মধ্যে কলকাতা বন্দর আসনে ফিরহাদ হাকিম, রাসবিহারী আসনে দেবাশীষ কুমার, চৌরঙ্গীতে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষ, শ্যামপুকুরে শশী পাঁজা, উত্তর চব্বিশ পরগনার বাগদা আসনে মধুপর্ণা ঠাকুরের ফলের ওপর নজর থাকবে।

বিজেপির অন্য প্রার্থীদের মধ্যে শিবপুরে রুদ্রনীল ঘোষ, আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পাল, নোয়াপাড়ায় অর্জুন সিং, রাজারহাট-গোপালপুরে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, পানিহাটিতে আর জি কর হাসপাতালে খুন হওয়া ছাত্রীর মা রত্না দেবনাথের ফলাফলে চোখ থাকবে সাধারণ মানুষের।

এ ছাড়া বাম প্রার্থীদের মধ্যে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও সায়নদ্বীপ মিত্র; কংগ্রেসের প্রার্থীদের মধ্যে অধীর চৌধুরী, মৌসুম বেনজীর নূর, শুভংকর সরকার, মনোজ চক্রবর্তী, শাহনাজ বেগম ও আবদুর রাজ্জাক মোল্লা এবং ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) নওশাদ সিদ্দিকী কেমন ফল করছেন, তা নিয়ে আগ্রহ থাকবে।

সূত্র : আনন্দবাজার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here