হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

0
24
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজে হামলা চালায়, তবে দেশটিকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হবে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে অঞ্চলটিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও আধুনিক অস্ত্র রয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো আধুনিক সরঞ্জামে সুসজ্জিত। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পিছপা হবে না।

গত সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলার ঘটনার পর থেকেই এই অঞ্চলে চরম বৈরিতা শুরু হয়। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের সাতটি ছোট নৌকা গুলি করে ডুবিয়ে দিয়েছে। মূলত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পথ দেখানোর উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। যদিও মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে প্রণালি পার হতে সহায়তা করেছে, তবে জাহাজ ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলোর তথ্যমতে, ওই জলপথে এখনো জাহাজ চলাচল অনেকাংশেই স্থগিত রয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে আটকে পড়া জাহাজগুলো ৮৭টি ভিন্ন দেশের, যারা এই সংঘাতের মাঝে মূলত ‘নিরপরাধ দর্শক’ হিসেবে আটকা পড়েছে। কুপার এক বিবৃতিতে জানান, গত ১২ ঘণ্টায় তারা কয়েক ডজন জাহাজ ও শিপিং কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করেছেন, যাতে তারা এই জলপথ ব্যবহার শুরু করতে উৎসাহিত হয়। তবে মার্কিন এই আশ্বাসের পর জাহাজ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে ঠিক কী ধরনের প্রতিক্রিয়া এসেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্য পথটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই মুখোমুখি অবস্থান বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here