পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক বিশাল বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে।
সকাল থেকেই ব্রিগেড ময়দান ও তার আশপাশের এলাকা উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিশাল সমাগমকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মূল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থিত লক্ষাধিক দর্শনার্থীকে মুগ্ধ করেছে।
শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পরপরই মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা শপথ বাক্য পাঠ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক। নতুন মন্ত্রিসভার এই পাঁচ সদস্যের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বঙ্গে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
নির্বাচনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবারই একজন বাঙালি ও বাংলা মাধ্যমে শিক্ষিত নেতার কথা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন। সেই মানদণ্ডে শুভেন্দু অধিকারী এগিয়ে ছিলেন। শুক্রবার বিধায়ক দলের বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে তাকেই পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। আটটি প্রস্তাবের সবকটিতেই তার নাম উঠে আসে এবং কোনো বিকল্প নাম প্রস্তাব না আসায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বিশাল জনসমাগম বিবেচনায় স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলকে মাস্ক পরিধানের অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।