চীনের সঙ্গে ‘চমৎকার বাণিজ্য চুক্তি’ হয়েছে: ট্রাম্প

0
1
চীনের সঙ্গে ‘চমৎকার বাণিজ্য চুক্তি’ হয়েছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ‘চমৎকার কিছু বাণিজ্য চুক্তি’ সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) বেইজিংয়ে সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে তিনি এই ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে চীন সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলেও তিনি জানান। খবর রোয়া নিউজের।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, জিনপিংয়ের সঙ্গে তার আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কিছু দুর্দান্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছি যা উভয় দেশের জন্যই মঙ্গলজনক।”

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, চীন আমেরিকা থেকে ২০০টি বড় বোয়িং জেট বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া চীন মার্কিন তেল ও সয়াবিন আমদানিতেও নতুন করে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনেও চীনের ভূমিকা ইতিবাচক বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, জিনপিং তাকে নিশ্চিত করেছেন যে, চীন বর্তমানে ইরানকে কোনো সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে না।

ট্রাম্পের ভাষায়, “জিনপিং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি হরমুজ প্রণালি খোলা দেখতে চান। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যেকোনো সহযোগিতা করতে বেইজিং প্রস্তুত।”

শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা এই অঞ্চলে একটি ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতি’ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থে দ্রুত নৌ-চলাচলের পথগুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার পক্ষে।

এদিকে, বাণিজ্যিক আলোচনার পরিবেশ উষ্ণ থাকলেও ভূ-রাজনৈতিক প্রশ্নে সুর নরম করেননি চীনের প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার দ্বিপাক্ষিক সম্মেলনের প্রথম দিনে ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়ে জিনপিং বলেন, ‘তাইওয়ান’ ইস্যু খুবই সংবেদনশীল এবং এক্ষেত্রে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ‘সংঘর্ষ’ ডেকে আনতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট বিস্তারিত জানাবেন।

এছাড়া বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের আলোচনার এক পর্যায়ে চীনের প্রেসিডেন্ট ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ তত্ত্বের কথা উল্লেখ করেন, যা মূলত একটি উদীয়মান শক্তির সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত শক্তির যুদ্ধের সম্ভাবনাকে নির্দেশ করে। যদিও জিনপিং মনে করেন, দুই দেশ এই বিপদ এড়াতে সক্ষম।

তবে শুক্রবার ভোরে ট্রাম্প তার নিজস্ব স্টাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, জিনপিং পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘ক্ষয়িষ্ণু রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করলেও সেটি আসলে তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলের জন্য প্রযোজ্য ছিল।

ট্রাম্প লিখেন, “দুই বছর আগে আমরা হয়তো ক্ষয়িষ্ণু ছিলাম, কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। জিনপিং নিজেই আমার সাফল্যের প্রশংসা করেছেন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here